বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মানবিক বাংলাদেশ সাপাহার উপজেলা শাখার মাস্ক বিতরন। টাংগাইলের সফল নারী উদ্যোক্তা “পল্লবী পাল” তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় পরিষদের অভিষেক সম্পন্ন আগৈলঝাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত। নড়াইলে ব্যবসায়ীকে গুলির ঘটনায় জড়িত আরো এক আসামী গ্রেফতার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (পঞ্চম শ্রেণি) লালমনিরহাটে অন লাইনে সাংবাদিক দের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিচিতি সভা সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের উদ্বোধন টুঙ্গিপাড়ায় বাবুল শেখের মাস্ক বিতরণ। দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে মাঠে আছেন- টিপু কলোড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সম্পাদকক কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা যৌতুকের দাবিতে মাগুরায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে হাসপাতালে ফেলে গেল স্বামী সাপাহারে আম গবেষণাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবী আমচাষীদের শাহজাদপুরে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিতরণ মাহে রমজান উপলক্ষে জমিয়ত নেতা মাওলানা আফেন্দীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ আগৈলঝাড়ায় সাবেক শিক্ষক ও কবি অবিচল মিয়া মান্নান সরদারের কুলখানি অনুষ্ঠিত। আগৈলঝাড়ায় দীর্ঘ নয় মাস পরও উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ ফিলিপ। লালমনিরহাটে নাভিলা পরিবহন সরকারি আদেশ অমান্য করায় ২ টি বাস আটক করেছে ট্র্যাফিক পুলিশ সিনিয়র সাংবাদিক জামাল হোসেনের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত ডামুড্যাতে বিশেষ আইন শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত
মানিকগঞ্জে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে হয়রানি,প্রতারণা আর অনৈতিক কাজে জর্জরিত ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সুমন আহমেদ।

মানিকগঞ্জে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে হয়রানি,প্রতারণা আর অনৈতিক কাজে জর্জরিত ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সুমন আহমেদ।

মানিকগঞ্জঃ

হয়রানি আর প্রতারণায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুমন। সুমনের পূর্বের বাড়ি ছিল মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধূলশুরা ইউনিয়নে। পদ্মা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে সুমনের পিতা রাজা মিয়া ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সানবান্ধা গ্রামে এসে সামান্য কিছু জায়গা কিনে বাড়ি করে। জীবিকা নির্বাহের জন্য বালিরটেক হাটে সুমন ও তার বাবা রাজা মিয়া মিলে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। তখন তাদের আর্থিক অবস্থা দিন আনে দিন খায়। কাঠের ব্যবসা চলাকালীন কিছুদিন পর থেকেই ক্রেতাদের অভিযোগ আসে তারা কাঠের পরিমাপে কম দেয়। দিনদিন কাঠের পরিমাপে কম দেয়ার অভিযোগ বাড়তে থাকে। এজন্য অসংখ্যবার গ্রাম সালিশ বিচারের সম্মুখীন হয়ে জরিমানা দিতে বাধ্য হয় সুমন ও তার বাবা রাজা মিয়া। তাদের অপকর্মের পর্দা খুলে গেলে তা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সুমনের বাবা রাজা মিয়া ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সাথে আঁতাত করে, বনে যান বালিরটেক বাজার কমিটির সভাপতি।

আবদুল কাদেরকে সামনে ধরে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন রাজা মিয়া। মেয়াদ উত্তীর্ণ বাজার কমিটির নির্বাচন না দিয়ে সভাপতির পদে বহাল থেকে বাপ- বেটা মিলে নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছেন কাঠের ব্যবসা। সভাপতির পদে থাকাতে কাঠের পরিমাপে কম দেয়ার বিচারের সম্মুখীন হতে হয় না সুমন বা রাজা মিয়াকে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আছে যে, চেয়ারম্যান আঃ কাদেরের ছত্র ছায়ায় ও রাজা মিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় সুমন তার চাচাতো ভাই সুজন ও রবিনকে সাথে নিয়ে একটি বাহিনী গড়ে তোলে। থানার দালালি থেকে আরম্ভ করে পুলিশের সোর্স হিসেবে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করাই ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। ২০১৪ সালে বালিরটেক বাজারে “গ্রামীণ শক্তি” নামক এনজিও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাসুদ রানা ইন্তা যখন গ্রাহকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়,তখন ইন্তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে সুমন বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

সুমন ও রাজামিয়া গ্রাহকদের তৎকালীন সময় ইন্তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া ২০১৯ সালে কৃষ্ণপুর গ্রামে একটা বাচ্চা ছেলের মার্ডার ও পুলিশের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মামলায় জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এত কিছুর পরেও শান্ত না সুমন।ঢাকায় বোনের শ্বশুরের থাকা মদের বার থেকে প্রাইভেট কারে করে এলাকায় মদের চালান নিয়ে এসে সুজন ও রবিনের সহযোগিতায় সেগুলো ডিস্ট্রিবিউট করে এলাকার যুবসমাজের কাছে। সুমনের ভগ্নিপতি মোস্তফার ব্যাংকের ঋণ থাকার কারণে গ্রামের বাড়ি মতলবপুরের বাড়িঘর সহ সমস্ত জমি জমা বিক্রি করে মাসুদের কাছে।

সুমন ও রাজা মিয়া চক্রান্ত করে সহজ-সরল ও লেখাপড়া না জানার সুযোগ নিয়ে মাসুদের সাথে মোস্তফার বিক্রি করা জমির দলিল লেখায় প্রতারণা করে মাসুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০ লক্ষ টাকা আদায় করে নেয় সুমন। তারপরও জমির দখল না দিয়ে বিভিন্ন মামলায় হয়রানির শিকার করেছে মাসুদকে। কিছুদিন আগে ব্যবসার নাম করে ভাড়ারিয়া গ্রামের মজলিস উদ্দীনের ছেলে আতিকুল ইসলাম (শ্যামল) এর কাছ থেকে ৫লক্ষ ও রহমান নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নেয় সুমন। বর শ্যামলের দেয়া টাকা ব্যবসায় না খাটিয়ে এখন আত্মসাৎ করার জন্য সুমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা শ্যামলকে হয়রানি করছে ও মেরেফেলে লাশগুম করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

এরকম অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়ম করে বর্তমানে ব্যাপক টাকা – পয়সা, বাড়ি- গাড়ি সহ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে গেছে সুমন ও রাজা মিয়া।যেমনটা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার মতো। কয়েক বছর আগেও রাজা মিয়া ও সুমন প্রকাশ্যে বিএনপির কর্মী ছিল। ২০১৮ সালে গোলাম সরোয়ার মিলনের এমপি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে সুমন ও রাজা মিয়া। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাপ বেটা নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদেরের সাথে যুক্তি করে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। আব্দুল কাদেরের সহায়তায় সুমন রাতারাতি যুবলীগের খাস লোক হয়ে যায়। আর বর্তমানে সুমন ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশি।

এবিষয়ে সরেজমিনে ভাড়ারিয়া ইউনিয়নে গিয়ে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বললে তারা বলে, “সুমনরা আগে থাকতো ধূলসুরা। নদীতে বাড়ী-ঘর ভেঙে গেলে সানবান্দা এসে একটা বাড়ি করে। তার পরে বালিরটেক বাজারে সুমন আর সুমনের বাবা রাজা মিয়া মিলে কাঠের দোকান দেয়।কয়দিন যেতে না যেতেই শুরু করে কাঠের পরিমাপে কম দেওয়া। সে বিষয়গুলো প্রকাশ পেলে অনেক বার সালিশ করে জরিমানাও করা হয়েছে। তার পরে কাদের চেয়ারম্যানকে টাকা-পয়সা দিয়ে বাজারের সভাপতি হয় সুমনের বাবা রাজা মিয়া। আর সুমন হয়ে যায় যুবলীগের কর্মী। অথচ আগে করতো বিএনপি। এখন তো অনেক টাকার মালিক হইছে। বাড়ি-গাড়ি করছে। ” নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, “সুমন অবৈধ ভাবে কালো টাকার মালিক হইছে। আমাদের বালিরটেক বাজারের গ্রামীন শক্তি এনজিওর টাকা নিয়ে যখন ইন্তা পালিয়ে যায় তখন তাকে সাহায্য করে কেটি টাকা কামিয়ে নেয়। আবার নিজের বোনের শশুরের মদের বার থেকে মদ এনে এলাকায় মদের ব্যবসা করে। তাছাড়া সুমন আর রাজা মিয়া যখন থেকেই চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হয়েছে তখন থেকেই চেয়ারম্যানের অধপতন শরু হয়েছে।নিজের স্বার্থসিদ্ধি লাভের জন্য কাদের চেয়ারম্যানের সাথে থেকে অপকর্ম করতো সুমন আর চাপাতো চেয়ারম্যানের উপর।

” আতিকুল ইসলাম (শ্যামল) বলেন,” সুমন বালু- মাটির ব্যবসা করতো।কিছুদিন আগে সুমন আমাকে ব্যাবসার কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা চায়।আমি শাহ্ জালাল ইসলামী ব্যাঙ্কে থাকা আমার ৪ লক্ষ টাকার একটি চেক ও নগদ ১ লক্ষ টাকা দেই সুমনকে।পরে সুমন তা অস্বীকার করে।আমি বাদি হয়ে থানায় মামলা করলে মাললা তুলে নেওয়ার জন্য সুমন আমাকে হুমকি দেয় ও নানা রকম ভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।পরে আমি আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রেরন করি। সুমন এখন প্রতিনিয়তই আমাকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে”।

সুমন আহমেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে(০১৮১৩-০৯৪১৯০)যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আঃ কাদেরের সাথে কথা বলার জন্য পরিষদে গিয়ে না পাওয়া গেলে তার মুঠো ফোনে (০১৭৩২-২৬৩৬৩৫) ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

খবরটি শেয়ার করুন




somoyerbarta-rh6

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

All Right Reserve Daily Somoyer Barta © 2020. 

 
Design by Raytahost