মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজদিখানে যুবলীগ নেতার ছত্র ছায়ায় তৈরী হচ্ছে সন্ত্রাস বাহিনী দক্ষিণবঙ্গ সাংবাদিক ইউনিট ফেসবুক গ্রুপের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা। পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াদ বেনাপোলে গরু চুরি করে জবাইয়ের সময় জনতার হাতে ধরা। ভূরুঙ্গামারীতে অগ্রিম ঈদুল ফিতর উদযাপিত গুইমারা রিজিয়িনের সেনাবাহিনী কর্তৃক মানবিক সহায়তা প্রদান মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা বাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৫ টি পিস্তল ৭ রাউন্ড গুলি ও ১ টি ম্যাগজিন উদ্ধার ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আল আমিন নাজমুল শাহজাদপুরে ৩০ শিক্ষার্থীর মাঝে পবিত্র কোরআন বিতরণ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান নিয়ে প্রতারক চক্রের প্রতারণা। মানিকগঞ্জে এক হাজার দুঃস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন মিজানুর রহমান। মানিকগঞ্জের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী মোঃ আতিকুল ইসলাম শ্যামলের ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা। মানিকগঞ্জের জাগীর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য পদ প্রত্যাশী মোঃ ছায়েদুর রহমানের ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা। মানিকগঞ্জে “মানুষের পাশে” সংগঠনের উদ্দ্যোগে মানবিক সহায়তা হিসেবে গবাদি পশু, সেলাই মেশিন, ও নগদ অর্থ প্রদান। মানিকগঞ্জে যুবলীগের পক্ষথেকে হাজারের অধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ মানিকগঞ্জ পৌর যুবলীগ নেতা মোঃ মশিউর রহমান এর পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ খান এর পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শিহাব হোসেন এর পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ঘিওরে ২ হাজার দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করলেন – এমপি দুর্জয়
অবসন্ন সমাপ্তি

অবসন্ন সমাপ্তি

সুলেখা আক্তার শান্তা

এলিনা সুখ পেয়েছিল বিয়ের আগে। বিয়ের পর স্বামীর ঘরে এসে আর সুখ পেল না। নিত্যদিন স্বামীর বকাঝকার সঙ্গে গায়ে হাত তোলা একটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যায় অন্যায় বলে কথা নেই। সব সময় মেজাজ গরম করে রাখাই নাকি পুরুষত্ব ফলানোর অন্যতম উপায়। স্বামীত্ব প্রধান বৈশিষ্ট্য। এলিনার স্বামী আতিকের তাই ধারণা। আতিক গর্ব করে বলে বউকে শাসনে না রাখতে পারলে কিসের স্বামী। বিয়ে করেছি এটা আমার বউ। বউকে যা ইচ্ছে তাই করবো তাতে অন্যের কি বলার আছে। বউ সুন্দর তাতে কি! সুন্দর দিয়ে তো পেটে আর ভাত জোটে না। একে বিয়ে না করলে আমার রাজ কপাল ছিল! তার উপর ওর মাকেও পালতে হচ্ছে। সারাদিন আমি খেটে মরি। দুই পয়সা আর জমাতে পারিনা।

এলিনা স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলে, আমার মা আপনার সংসারে এমনি খায়? মা জমানো টাকা ছিল তার সবই তো আপনাকে দিয়েছে। সারাদিন আপনার সংসারে ঠোঙ্গার ব্যবসায় সাহায্য করে। রাত কে রাত ঠোঙা বানায়।
তোর এত বড় সাহস আমার মুখের উপরে কথা বলিস! মুখ তোর সেলাই করে দেবো।
হ্যাঁ তাই করেন, স্ত্রী হিসাবে আপনার সঙ্গে ভালো করে একটা কথাও বলতে পারিনা।
কথা না বলে, কাজ কর।

দিনরাত কাজ করেই তো মরি। কখন যায় দিন কখন যায় রাত টেরও পাইনা।
মুখে বকবক করিস? বলেই শুরু করে দেয় বেদম প্রহার। মার খেয়ে এলিনা নির্বাক বসে কাঁদতে থাকে। মেয়েকে এমন নির্দয় মার খেতে দেখে সাদিয়া বলে, আমার দুঃখের কপাল। যদি কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকতো আমি তোর এখানে থাকতাম না। এই গঞ্জনা আর সহ্য হয় না। চোখের সামনে মেয়েটাকে এমন গরুর মত মারতে দেখে কোন মা সহ্য করতে পারে!
এলিনা পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করে। মা কপালের লিখন ঠেকাবো কেমনে। তুমি দুঃখ কোরো না। আল্লাহ যেন এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দেয়। সুখ তো সবার জীবনে আসে না। এলিনা নিজেকে গুছিয়ে কাজে লেগে পরে।

সাদিয়া মেয়েকে বলে, মা তোর আজ কাজ করার দরকার নেই। মেরে শরীরের যে অবস্থা করেছে, তুই শুয়ে থাক আমি কাজ সেরে নেই।
মা তুমি একা করতে পারবে না। ঠোঙ্গার কয়েক দোকানের অর্ডার আছে। সময়মত ডেলিভারি না দিতে পারলে এই নিয়ে আবার শুরু হবে হাঙ্গামা। মা-মেয়ে দু’জনই শুরু করে ঠোঙা বানানোর কাজ। শুধু কাজই করে যায় টাকা আর চোখে দেখে না। টাকা পয়সার লেনদেন সব আতিকের হাতে। এলিনার দু’মেয়ে একছেলে। একদিকে সংসার অন্যদিকে ব্যবসার কাজ ঠিকমতো ছেলেমেয়েদের যত্ন নিতে পারেনা। ছেলেমেয়েরা বুঝতে শিখেছে। মায়ের এমন হাড়ভাঙা খাটুনি দেখে মাকে জড়িয়ে ধরে। এলিনা সন্তানদের সান্ত্বনা দিয়ে বলে, আমার সব পরিশ্রম তোমাদের জন্য। তোমরা ভালো থাকলেই আমার সব কষ্ট সার্থক।

আতিক হঠাৎ সবাইকে হতবাক করে না বলে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। যাবার আগে ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে, ঠোঙ্গা কাজের পাওনা টাকা ওতাদের কাছ থেকে আরও অগ্রিম টাকা ধার চেয়ে নেয়। প্রতিবেশীর কাছ থেকেও নানা কথা বলে টাকা ধার নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দোকানদার ও প্রতিবেশীরা আতিকের ধারের টাকা এলিনার কাছে ফেরত চায়।
এলিনা অসহায়। আপনারা আমার কাছে টাকা চাচ্ছেন, আমি কোথা থেকে টাকা দিব! আপনারা যাকে টাকা দিয়েছেন সে তো স্ত্রী সন্তান ফেলে রেখে চলে গেছে। আমি যে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিব তেমন কোন ব্যবস্থা রেখে যায়নি।
লোকজনের এককথা, তারা অত কিছু বুঝে না। তাদের টাকা পরিশোধ করতে হবে। নইলে পরিনাম খারাপ হবে!
এলিনা নিরুপায়। বাধ্য হয়ে বলতে হয়, আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। আমি কাজ করে ধীরে ধীরে সকলের টাকা পরিশোধ করে দিব। আমাকে একটু সময় দেন। পরিশোধের আশ্বাসে লোকজন শান্ত হয়।
এলিনার কাঁধে সংসারের দায়ের সঙ্গে ঋণের দায়। হতাশ হলেও ভেঙে পড়ে না। হাতের কাছে যে সম্ভাবনা আছে তার পূর্ণ ব্যবহার করতে থাকে। ছেলে মেয়ে নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ছেলে নাদিম একদিন বলে, মা আমি পড়ালেখা করতে চাই?
এলিনা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে, বাবা আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। সবকিছু আমাদের চাইলেই হয়না। নাদিমকে গাড়ির গ্যারেজে কাজে লাগিয়ে দেয়। মেয়ে স্বর্ণাকে নিজের সঙ্গে কাগজের ঠোঙা বানানোর কাজে লাগায়। সবার মিলিত রোজগারে কোনমতে সংসার চলে আর কিছু ঋণ পরিশোধ হয়। যে স্বামী এলিনাকে এত জ্বালাতন ও মারধোর করতো, তারপরও সেই স্বামীর কথা ভাবে, তাকে খোঁজে। কিন্তু যে ইচ্ছা করে হারায় তাকে কি খুঁজে পাওয়া যায়!
ছোট মেয়ে দোলা স্কুলে যায়। এলিনা ভাবে যাক দুই সন্তানকে তো পড়ালেখা পরাতে পারিনি। ওদের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়েটা কে পড়ালেখা করাব। কিন্তু দোলা পড়ালেখা করতে চায় না। সে ছুটে বেড়ায়।
এদিন নাদিম কাজ থেকে বাসায় ফিরে। মায়ের বানানো ঠোঙা উপরের লেখা তা পড়া শুরু করে। তা দেখে এলিনার দু’চোখ ভিজে উঠে। ভাবে ছেলের পড়ালেখার কত ইচ্ছা ছিল, পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এলিনার বড় মেয়ে স্বর্ণা বেশ সুশ্রী। একটি ছেলেকে ভালোবাসে। ছেলেটিও ভালোবাসে স্বর্ণাকে। স্বর্ণা ছেলেটিকে ভালবাসলেও মনে অনেক ভয়। কারণ পাবেল বড়লোকের ছেলে। ঢাকায় তাদের বাড়ি গাড়ি আছে। বাবার বড় ব্যবসা। বড়লোকের ছেলেকে ভালোবাসার কারণে স্বর্ণাকে লোকের নানা কথা শুনতে হয়। গরিবের মেয়ে বড়লোকের ছেলের সঙ্গে প্রেম করে। এই ছেলে এ মেয়েকে কোন দিনও বিয়ে করবে না। প্রেমের নামে নষ্টামি করে চলে যাবে। লোকের মুখে একই কথা শুনতে শুনতে স্বর্ণার কান ঝালাপালা হয়ে যায়। স্বর্ণা এইসব কথায় অতিষ্ঠ হয়ে পাবেলকে বিয়ে করা কথা বলে।
পাবেলের উওর। দেখো আমি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাদেরকে আমি কিছুতেই এ বিয়ের কথা বলতে পারব না। তাছাড়া তোমার বাবা তোমাদের ছেড়ে চলে গেছে। কোন খোঁজ খবর নেয়না। আমি কি করে বাবা-মায়ের কাছে এসব কথা বলি।
পাবেল এসব উদ্দেশ্য বিয়ে না করার কৌশল। স্বর্ণা ভালোবাসার মানুষের মুখে এসব কথা শুনে হতবাক। পাবেল তাহলে তুমি বিয়ে করতে চাও না আমাকে?
আমিও ভালোবাসি তোমাকে, তুমি ভুল বোঝনা। বাবা-মার আমাকে নিয়ে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা। আমি তাদের সেই আশা ভঙ্গ করতে পারবো না।
এই তাহলে তোমার কথা?
এছাড়া আমার আর কোন কথা নেই।
স্বর্ণা উপায়ন্তর না দেখে পাবেলের মায়ের সঙ্গে করে। তাকে সব খুলে বলে। স্বর্ণা কেঁদে কেঁদে বলে, মা আপনি বলেন আমি এখন কি করব।
স্বর্ণার জন্য রাহেলার হৃদয় মায়া ভরে উঠে। বলেন, এ নিয়ে চিন্তা করো না আমার ছেলের সঙ্গেই তোমার বিয়ে হবে। তুমি নিশ্চিত থাকো। আমি ছেলের সঙ্গে এনিয়ে কথা বলব। স্বর্ণা যেন অকুল সাগরে কুল খুঁজে পায়। ভালোবাসার মানুষকে পাবার ভরসায় বাসায় ফিরে আসে।
স্বর্ণার ব্যাপার নিয়ে রাহেলা ছেলের মুখোমুখি হয়।
মায়ের প্রশ্নতে পাবেল নিশ্চুপ থাকে। ছেলের নীরবতায় রাহেলা ধরে নেয় স্বর্ণা যা বলেছে সত্যি। পাবেলের বন্ধুরাও স্বর্ণাকে ভালোবাসার কথা স্বীকার করে।
রাহেলা ছেলেকে বললেন, তুই এ বিয়ে করতে চাস না স্বর্ণা গরিবের মেয়ে বলে? ওর বাবার কোনো খোঁজ নেই, এই তোর সমস্যা? বাবা ফেলে চলে গেছে এতে তো মেয়ের কোন দোষ নেই। ভালোবাসায় এসব দোষ-ত্রুটি দাঁড়া করানো ঠিক না! এতে ভালোবাসাকে ছোট করা হয়। রাহেলা ছেলেকে নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতে স্বর্ণাদের বাসায় যায়। এলিনা প্রত্যাশিত ঘটনায় মহা খুশি।
বিয়ের সব কথা ঠিক হলে রাহেলা বলে, মেয়েকে আপনি বড় অনুষ্ঠান করে বিয়ে দিবেন। একথা শুনে এলিনার মুখ শুকিয়ে যায়। বড় অনুষ্ঠান করতে গেলে খরচ অনেক। রাহেলা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলেন, চিন্তা করবেন না খরচ যা লাগে সব আমি দিবো।
তা কি করে হয়! এলিনা মানুষের সহৃদয়তার কথা শুনেছে কিন্তু বাস্তবে দেখে অভিভূত হয়ে গেল।
আপনি কোন দ্বিধা সংকোচ করবেন না। যা বলি তাই শোনেন। রাহেলা ভরসা দিয়ে বলে এলিনাকে, আজ থেকে স্বর্ণার জন্য কোন চিন্তা করবেন না। স্বর্ণা আমার কাছে বৌ না মেয়ে হয়ে থাকবে। অবশেষে স্বর্ণার অনেক বড় অনুষ্ঠান করে বিয়ে হয় পাবেলের সঙ্গে।

দোলা ক্লাস নাইনে পড়ে। এলাকায় নাছোড়বান্দা এক বকাটে ছেলে সজলের সঙ্গে প্রেম করে। এলিনা ব্যাপারটা জেনে মেয়েকে বাধা দেয়। কোন ভাবেই সে মেয়েকে ফেরাতে পারে না। দোল আর সজন কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করে। ছেলে কোন কাজকর্ম করে না বাবা-মার ঘার বসে খায়। স্বামীর কাজ না করায় দোলাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে কথা শুনতে হয়। দোলা স্বামীকে কাজকর্ম করার কথা বললে।
সজল বলে, আমি কি জাতের মানুষ দেখে এসেছিস না। তাহলে আবার কাজের কথা বলিস কেন?
দোলা আর কথা বাড়ায় না। ভুল তো সেই করেছে অল্প বয়সে বিয়ে করে। তার মাঝে দোলার একটি পুত্র সন্তানও হয়।
এলাকার মারামারির কারণে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় সজলকে। শ্বশুরবাড়ি অবহেলার কারণে দোলা সন্তান নিয়ে চলে যায় মায়ের কাছে। এলিনার অভাবের সংসারে দোল এসে হাজির। এলিনার শরীরের আর কুলায় না নানা অসুখ বাসা বেধেছে। তার উপরে স্বামীর ঋণ এখনো টানতে হচ্ছে। আগের মত কাজ করতে পারেনা। হঠাৎ প্যারালাইসিস হয়ে বিছানায় পড়ে যায়।
সাদিয়া মেয়ের অবস্থার অবনতি দেখে কান্নাকাটি করে। তার অবস্থাও খারাপ। কিছু করার মত সামর্থ্য নেই। দুঃখিনী মানুষের সুখ না থাকলেও দুঃখ থাকে চির সঙ্গী হয়ে। দুঃখের মাঝে দুঃখ নিয়ে সাদিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নাদিম বিয়ে করে রিপাকে। রিপা খুব অহংকারী মেয়ে। শাশুড়ির সেবা যত্ন করতে চায় না। তার এককথা আমি সেবা করতে আসিনি। আমি দেখে এসেছি স্বামীকে তাই তাকে নিয়েই সংসার করতে চাই। তাছাড়া আমি অন্য কাউকে চিনিনা। দোলা আর তার সন্তান এখানে থাকতে পারবে না। দু’জনের খরচ আমার স্বামী চালাতে পারবেনা। ছেলের বউয়ের কথা শুনে এলিনার নিরবে অশ্রু ঝরে। শুনেছি ছোটবেলা থেকে আমার স্বামীকে দিয়ে কাজ করিছেন। সব টাকা খরচ করে খেয়ে দেয়ে নিঃশেষ করেছেন। ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন নাই।
দোলা সন্তানকে নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। কাজের সংস্থান করায় আর মায়ের বাসায় আসে না।
এলিনা অসুস্থ শয্যাশায়ী। দেখার মত কেউ নেই। খাওয়া-দাওয়া সবকিছু তার বিছানাতে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় ডাকে, বৌমা আমাকে ভাত দিয়ে যাও। বউ এসে তো ভাত দেয় না বরং শাশুড়িকে বকাঝকা করে।
এলিনা বউয়ের ভয়ে বলে, থাক বউ মা আমি ভাত চাই না। শুয়ে শুয়ে সন্তানদের কথা ভাবে। একটা সন্তানেরও মুখ দেখতে পায় না। ছেলে কখন কাজে যায় কখন বাসায় ফিরে কিছুই টের পায়না। এলিনা দরজার শব্দ পেয়ে বলে, বাবা আইছো। মায়ের কথা ছেলের কানে যায় না। ছেলের মুখ দেখতে পেলে বড় শান্তি পেত। কাছে থেকেও ছেলেকে দেখতে পায় না।
আকাশ-পাতাল ভাবতে থাকে। সুখের সংসার সাজাতে চেয়েছিল কি হলো সেই স্বপ্নের। বিধাতা আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও। অবসন্ন পরিশ্রান্ত সে। সবাইকে আপন করলেও কেউ তাকে আপন করতে পারিনি। মৃত্যুকেই আজ তার বড় আপন মনে হয়।

খবরটি শেয়ার করুন




somoyerbarta-rh6

© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

All Right Reserve Daily Somoyer Barta © 2020. 

 
Design by Raytahost